মোহনবাগান প্রেমীরা খুব গর্বের সাথে উচ্চারিত করেন যে দুই খেলোয়াড় নাম - The News Lion

মোহনবাগান প্রেমীরা খুব গর্বের সাথে উচ্চারিত করেন যে দুই খেলোয়াড় নাম

 


দি নিউজ লায়নঃ   সাল ১৯৭৯ মোহনবাগান এ সই করলো দুই নতুন  খেলোয়াড় যাদের নাম এখনও পর্যন্ত ভারতীয় ফুটবল তথা মোহনবাগান প্রেমীরা খুব গর্বের সাথে উচ্চারিত করেন।প্রথমজন বিএনআর থেকে এলেন গোলকিপার প্রতাপ ঘোষ।আর দ্বিতীয় জন কেরালার প্রিমিয়ার টায়ার্সে খেলা জেভিয়ার পায়াস।১৯৭৮ এ কলকাতায় অনুষ্ঠিত সন্তোষ ট্রফির খেলায় কেরালা এবং পাঞ্জাব এর সাথে খেলায় কেরালার খেলোয়াড় জেভিয়ার পায়াস ফুটবল জহুরি শৈলেন মান্নার নজরে পরে।তিন প্রধানই জেভিয়ার পায়াসকে দলে নেওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পরে।


১৯৭৮ এ জেভিয়ার পায়াস এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেন।শেষমেশ বাবা এ এম জেভিয়ারের অনুরোধে জেভিয়ার পায়াস মোহনবাগানে সই করেন।কেরালার আলিঙ্গন অঞ্চলের স্বল্পবাক,লাজুক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন পায়াস।কানের পাশে চুলগুলো ঠিক ঝুমকো ফুলের মতো ছিল বলে মোহনবাগান সমর্থকরা তাঁকে ভালোবেসে ঝুমকো পায়াস বলে ডাকতো।মৃদুভাষী, লাজুক পায়াস মাছ খেতে পছন্দ করতেন  প্রথম কলকাতায় এসে বেহালায় থাকতেন।


ছোট ছোট পায়ের সুক্ষ্ম কাজ, এবং কোমড়ের দোলায় অনায়াসে ডিফেন্ডারদের কাত করে দিতেন।দুটো পায়ের ফাঁকে বল রেখে এবং চকিতে ঘুরে গোলে শট নেওয়া ছিল তার খেলার একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট।প্রথমদিন থেকে সবুজ মেরুন জার্সি পরে তিনি তাঁর ফুটবল জাদু দেখাতে শুরু করেন। স্বাভাবিক ভাবেই খুব অল্পদিনের মধ্যেই তিনি মোহন জনতার নয়নের মণি হয়ে পরলেন।সেই সময় মোহনবাগান গ্যালারিতেও পায়াসের মতো চুল রেখে বহু মোহনবাগান সমর্থক মাঠে আসতেন। ১৯৮১ সালের ফেডারেশন কাপে দুর্দান্ত মজিদ, জামশিদ নিয়ে গড়া ইস্টবেঙ্গল কার্যত পায়াসের কাছে আত্মসমর্পণ করে। 


মোহনবাগান ২-০ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে পরাজিত করে।প্রথম গোল আসে সুরজিত সেনগুপ্তের করা শট ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার দিলীপ পাল পাঞ্চ করে ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বল হেড করে গোল করে পায়াস।দ্বিতীয় গোল গৌতম সরকারের পাশ করা বল বাঁ পায়ের জোড়ালো শটে গোল করেন পায়াস।১৯৮১ সালের কলকাতা লিগেও পায়াসের কাছে আত্মসমর্পণ করলো মজিদ, জামসিদ নিয়ে গড়া ইস্টবেঙ্গল। ততকালীন ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলা ভারতবিখ্যাত ডিফেন্ডার মনোরঞ্জন এবং সুধীর কর্মকারকে নাস্তানাবুদ করে ইস্টবেঙ্গলের জালে বল জড়ান পায়াস।


ইস্টবেঙ্গল পরাজিত হয় ১-০ গোলে।সেইসময় ইস্টবেঙ্গলের কাছে ক্রমশ আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠে পায়াস।ততকালীন বিখ্যাত ডিফেন্ডার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য অকপটে স্বীকার করেন তিনি সবথেকে বেশি ভয় করেন জেভিয়ার পায়াসকে।বহু ম্যাচ  মোহনবাগান ক্লাবকে একক কৃতিত্বে জয় এনে দেন হাবিব এর খেলা ভক্ত জেভিয়ার পায়াস। ইস্টবেঙ্গল এবং মহামেডান স্পোর্টিং এর অনেক লোভনীয় টাকার অফার সহাস্যে উপেক্ষা করে দীর্ঘ  ৯ বছর তাঁর প্রিয় মোহনবাগান এ খেলে ১৯৮৯ সালে ফুটবল থেকে অবসর নেন মোহনবাগানের ঘরের ছেলে মোহন জনতার নয়নের মনি জেভিয়ার  পায়াস।মোহনবাগানের ফুটবল সংস্কৃতি বা মোহনবাগানের ঘরের ছেলে ফুটবলার নিয়ে আলোচনা হলে সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু অবশ্যই থাকবে নিরহংকার জেভিয়ার পায়াস এর নাম।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.